স্থায়ী নদীবাঁধ ও ভাঙন রোধ, ভুলুয়া নদী উদ্ধার ও খনন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, রাষ্ট্র-সংস্কার বাস্তবায়ন
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
বাংলাদেশ
জিন্দাবাদ
আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত
লক্ষীপুর-৪
রামগতি
ও কমলনগর আসনের জনগনের কাছে
আমার
অঙ্গীকার
প্রিয়
এলাকাবাসী,
আসসালামু
আলাইকুম, আদাব ও নমস্কার।
আমাদের
প্রিয় রামগতি ও কমলনগরকে একটি
আধুনিক, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ এলাকা
হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী
হিসেবে আমি আপনাদের কাছে
নিম্নোক্ত অঙ্গীকারসমূহ ব্যক্ত করছি:
আমার ১৮ দফা উন্নয়ন অঙ্গীকার
১. স্থায়ী
নদীবাঁধ ও ভাঙন রোধ: মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন থেকে রামগতি ও কমলনগরকে রক্ষায় সর্বোচ্চ
অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুততম সময়ে টেকসই ও আধুনিক নদীবাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে।
২. ভুলুয়া
নদী উদ্ধার ও খনন: জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে ভুলুয়া নদীকে অবৈধ
দখলমুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ ড্রেজিং ও খনন করা হবে।
৩. মাদকমুক্ত
সমাজ গঠন: মাদকের উৎপাদন ও সরবরাহের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করা হবে।
দলের কেউ জড়িত থাকলেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪. রাষ্ট্র-সংস্কার
বাস্তবায়ন: দেশনায়ক তারেক রহমানের প্রস্তাবিত 'রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা'র
আলোকে এই অঞ্চলের উপযোগী দফাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।
৫. সুশাসন
ও জবাবদিহিতা: সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলা হবে। নাগরিকদের
হয়রানি বন্ধে 'নাগরিক সেবা কেন্দ্র' চালু করা হবে।
৬. স্থানীয়
বিচার প্রক্রিয়ার সহজীকরণ ও মামলা হ্রাস: রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণের ভোগান্তি কমাতে স্থানীয়
বিচার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও নিরপেক্ষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৭. আধুনিক
যোগাযোগ ব্যবস্থা: রামগতি ও কমলনগরের গ্রামীণ প্রধান সড়কগুলোর সংস্কার এবং জেলা
সদরের সাথে দ্রুত যোগাযোগের জন্য নতুন সড়ক ও সেতু নির্মাণ করা হবে।
৮. যুব উন্নয়ন
ও কর্মসংস্থান: কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আইটি পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে বেকার
যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
৯. আধুনিক
ও নিরাপদ হাট-বাজার গড়ার প্রতিশ্রুতি: প্রতিটি বাজারে সিসিটিভি ও প্রশাসনিক তদারকি
নিশ্চিত করা হবে। জলাবদ্ধতা দূর করতে আধুনিক ড্রেনেজ ও শেড নির্মাণ, চলাচলের রাস্তা
পাকা, নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা এবং খাজনা আদায়ে সব অনিয়ম বন্ধ করা হবে। ব্যবসায়ীদের জন্য
গণশৌচাগার নিশ্চিত করা হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য
নিশ্চিত করতে আধুনিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
১০. শিক্ষা
ব্যবস্থার মানোন্নয়ন: জরাজীর্ণ স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মেধাবী ও দরিদ্র
শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি ও সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
১১। ক্রীড়া
ও সংস্কৃতির জাগরণঃ তরুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ
এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা প্রসারে কাজ করবো। স্থানীয় শিল্প-সংস্কৃতি সন্রক্ষণ,নিয়মিত
সাংস্কৃতিক উৎসব ও সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে একটি সৃজনশীল সমাজ গড়ে তুলবো।
১২. কৃষি
ও মৎস্যজীবীদের উন্নয়ন: মেঘনার মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, সঠিক জেলে কার্ড
বিতরণ এবং কৃষকদের জন্য সার, বীজ ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা
হবে।
১৩. স্বচ্ছ
বণ্টন: সরকারি সকল প্রকার বরাদ্দ (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও উন্নয়ন) বিতরণে ডিজিটাল
ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ন্যায়সংগত প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে।
১৪. নারীর
ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা: নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড
ও স্বাস্থ্য কার্ড চালু এবং এগুলোর স্বচ্ছ বণ্টন নিশ্চিত করা হবে। নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের
জন্য ক্ষুদ্র ঋণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত
করা হবে।
১৫. ধর্মীয়
মূল্যবোধ ও সম্প্রীতি: মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন
এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১৬. প্রবাসীদের
সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করাঃ দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি প্রবাসী ভাই-বোনদের
সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। দ্রুত পাসপোর্ট সেবা,দূতাবাসে সম্মানজনক আচরণ
এবং প্রবাসী কর্মীর মৃত্যুতে সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। শোকাহত
পরিবারের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়াবো।
১৭. দুর্যোগে
সবসময় আপনাদের পাশে: বন্যা, জোয়ার, জলোচ্ছ্বাস ও মহামারিসহ যেকোন দুর্যোগে অতীতের
মতো ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে থাকবো। উপকূলীয় এলাকায় পর্যাপ্ত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র
নির্মাণ, চরাঞ্চলে গবাদিপশু রক্ষায় উঁচু কিল্লা স্থাপন এবং দুর্যোগকালীন জরুরি সেবায়
কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
১৮. প্রবীণদের
কল্যাণে অঙ্গীকারঃ প্রবীণ নাগরিকদের মর্যাদা ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রবীণ ভাতা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা আরও সহজ ও প্রাপ্তিযোগ্য করতে কার্যকর উদ্যোগ গহণ
করবো, ইনশাআল্লাহ্।
প্রিয় ভাই-বোন
ও বন্ধুগণ, আমার এই অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনাদের দোয়া, সমর্থন
ও আপনার মূল্যবান ভোট প্রত্যাশা করছি।
আসুন, সকলে
মিলে 'ধানের শীষ' মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আমাদের স্বপ্নের আধুনিক, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ
রামগতি-কমলনগর গড়ে তুলি।
ধানের শীষে
ভোট দিন
এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান
বিএনপি মনোনীত সংসদ
সদস্য পদপ্রার্থী, লক্ষ্মীপুর-৪
(রামগতি-কমলনগর)