কৃষি ও মৎস্যজীবীদের উন্নয়ন, স্বচ্ছ বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, প্রবাসীদের সম্মানজনক সেবা নিশ্চিতকরণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা
রামগতি–কমলনগরের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি ও মৎস্য। মেঘনা নদীঘেঁষা এই অঞ্চলের হাজারো মৎস্যজীবী ও কৃষক আজও নানা বৈষম্য ও অবহেলার শিকার। সঠিক সহায়তা না পাওয়ায় তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আমি নির্বাচিত হলে মেঘনার মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি গ্রহণ করব এবং প্রকৃত জেলেদের হাতে সঠিক জেলে কার্ড নিশ্চিতভাবে পৌঁছে দেব। কোনো ভুয়া বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য মানসম্মত সার, উন্নত বীজ ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করা হবে, যাতে উৎপাদন খরচ কমে এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য পায়। কৃষক ও জেলেদের উন্নয়নই হবে গ্রামীণ অর্থনীতির শক্ত ভিত।
সরকারি বরাদ্দ বণ্টনে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্ব জনগণের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও উন্নয়ন খাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা অনেক সময় তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।
আমি নির্বাচিত হলে সরকারি সকল প্রকার বরাদ্দ বণ্টনে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখব, যাতে কে কী পাচ্ছে—তা স্বচ্ছভাবে যাচাই করা যায়। দল-মত, পরিচয় বা তদবির নয়—যোগ্যতা ও প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতেই বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। স্বচ্ছ বণ্টনই হবে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
প্রবাসী ভাই-বোনেরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের ঘাম ঝরানো রেমিট্যান্সেই দেশের উন্নয়ন এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ অনেক সময় তারাই সবচেয়ে অবহেলিত।
আমি নির্বাচিত হলে প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা ও সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখব। দ্রুত পাসপোর্ট সেবা, দূতাবাসে প্রবাসীদের সঙ্গে মানবিক ও সম্মানজনক আচরণ এবং প্রবাসী কর্মীর মৃত্যুতে সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিতে কাজ করব। একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়াবো। প্রবাসীরা যেন রাষ্ট্রের গর্ব হিসেবে সম্মান পায়—এটাই আমার অঙ্গীকার।
প্রবীণরা আমাদের সমাজের অভিভাবক। কিন্তু আজ অনেক প্রবীণ নাগরিক অবহেলা, নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের সম্মান ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আমি নির্বাচিত হলে প্রবীণ ভাতা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রাপ্তিযোগ্য করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করব, ইনশাআল্লাহ্। প্রবীণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করাই হবে আমার অঙ্গীকার।
বাংলাদেশকে টেকসই গণতন্ত্র ও সুশাসনের পথে ফিরিয়ে আনতে দেশনায়ক তারেক রহমান প্রস্তাবিত ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ একটি সময়োপযোগী রূপরেখা।
আমি নির্বাচিত হলে এই ৩১ দফার আলোকে রামগতি–কমলনগরের উপযোগী সংস্কারগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য সংসদে ও মাঠপর্যায়ে কাজ করব। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা, ক্ষমতার ভারসাম্য ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই হবে এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য।
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও হয়রানি মুক্ত প্রশাসন ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না। মানুষ আজ প্রশাসনের কাছে ন্যায্য সেবা পেতে ভয় পায়—এই অবস্থা পরিবর্তন করতেই হবে।
আমি নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত, জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার পক্ষে আপসহীন অবস্থান নেব। নাগরিকদের হয়রানি বন্ধে ‘নাগরিক সেবা কেন্দ্র’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ সহজে ও সম্মানের সঙ্গে সরকারি সেবা পাবে। প্রশাসন হবে জনগণের সেবক—ভয়ের কারণ নয়।
রামগতি–কমলনগর একটি দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় এলাকা। বন্যা, জোয়ার, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। দুর্যোগের সময় পাশে থাকা মানেই প্রকৃত নেতৃত্ব।
আমি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে আপনাদের পাশে থাকব। উপকূলীয় এলাকায় পর্যাপ্ত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, চরাঞ্চলে গবাদিপশু রক্ষায় উঁচু কিল্লা স্থাপন, এবং দুর্যোগকালীন জরুরি সেবায় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল অঙ্গীকার।